প্রার্থনায় আরজি
- মাহফুজ ইসলাম সাকিব
খোদা—
আমি নিশ্চুপ হতে চাই।
বাকশূন্য মানবের
শব্দ আছে, অর্থ নেই।
খোদা,
নিশ্চুপ গোলামের কথাও
তুমি বুঝ।
নিশ্চুপেই কী মুক্তি?
তবে যদি হয়—
খোদা,
মুক্তি দাও, খোদা।
যে শহরের অর্থ—
ভালোবাসা মানেই ভুল বুঝা,
আর ভুল খোঁজা।
ভুলের ক্ষমা কি শুধুই মৃত্যুর আলিঙ্গনে?
সে শহর থেকে
কী মুক্তি দেওয়া যায় না?
খোদা,
তোমার গোলাম হয়ে
ভাসমান জীবন
নিখিল বিষের জ্বালায় রইল।
তুমিও কী তবুও
এই নশ্বর পৃথিবীতে
আমায় হায়াতের বেড়াজাল হইতে
মুক্তি দিবে না?
খোদা,
তোমার দরবারের আকুতি-মিনতি
তুমি দেখলে;
তার অনুভূতির অংশটুকুও
কারো হৃদয়ে আঁচ কাটল না।
খোদা,
জ্ঞান দেওয়াই যেথায়
প্রধান সহানুভূতি,
তাহলে অনুভবের অনুভূতি
কেন পৃথিবীতে
শুধু আমার জন্যই পাঠালে?
খোদা,
এই বিভীষিকা হইতে হয় মুক্তি দাও,
নয়ত চৌপায়ায় আবৃত চৌকাঠে নিথর দেহের ঠাঁই দাও।
খোদা,
এই বিষণ্নতার দীর্ঘশ্বাস,
হতাশার মহাজীবন আর কতকাল?
খোদা,
হায়াতের বেড়াজালের শেষ প্রান্ত আর কত দূর?
শেষ প্রান্তে নাকি অন্তরচোখের মৃত্যু ঘটছে!
খোদা,
আর কত মানবধারণায় আমায় হত্যা করলে
মুক্তি মেলবে?
খোদা,
আর কতজন ভুলের আবডালে,
অবিশ্বাসের বিষবৃক্ষ রোপণ করলে
আমার মৃত্যু মেলবে?
খোদা,
তোমার দেওয়া পৃথিবীর আলো
বর্ণহীন ধারণ করেছে।
তবুও, খোদা,
একটু কী মুক্তি মেলবে না?
খোদা,
আমি দোষ স্বীকার করে
নতশিরে গুটিয়ে নিয়েছি আমায়।
তবুও কেন
এই বিভীষিকার আগুন
হৃদয় নিগৃহীত করছে?
খোদা,
মানবচিন্তায় না হয় অতি নিচু;
তবে তোমার জাহান্নামের পেটপূজায়
এ দেহের অবদান কিন্তু থাকবে।
তবুও কী মুক্তি মেলবে না, খোদা?
খোদা,
আমায় না হয়
তোমার আশরাফুল মাখলুকাত মানব,
তাদের আখলাকে হাসানায়
ভুল ভাবল, বুঝল না।
তাই বলে
তোমার রহমত হইতেও
আমার অন্তর বঞ্চিত থাকবে?
খোদা,
তোমার গোলামকে কেন
তুমি মুক্তি দাও না?
খোদা বললেন—
"হে বান্দা,
নিরাশ হইও না।
আমার রহমতের দুয়ার
তোমার জন্য সর্বদা খোলা।"
আমি বললাম—
হে খোদা,
ধৈর্যের এই পথ
আর কত দূর?
আমি তো একা!
খোদা বললেন—
"ইন্নাল্লাহা মা'আস-সাবিরীন।"
খোদা—
আমায় দুঃখ-কষ্টের
যন্ত্রণার বিষক্রিয়া
আঁকড়ে ধরে।
খোদা বললেন—
ফা-ইন্না মা'আল-'উসরি ইউসরা।
ইন্না মা'আল-'উসরি ইউসরা।
আমি তসবিহ হাতে,
জায়নামাজ নিয়ে
খোদার সান্নিধ্যে গেলাম।
২১-০৭-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।